বর্তমানে নিবন্ধিত রক্তদাতার সংখ্যা: ৮৭২ জন

রক্তদান: একটি মহৎ উদ্যোগ

বাঁচাতে পারে একটি জীবন, আপনার কয়েক মিনিটের উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে কারও বেঁচে থাকার নতুন আশার আলো।

রক্ত মানুষের জীবনের অপরিহার্য উপাদান। দুর্ঘটনা, জটিল অস্ত্রোপচার, প্রসবকালীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, ক্যানসার, থ্যালাসেমিয়া এবং বিভিন্ন গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসায় অনেক সময় রক্তের প্রয়োজন হয়। অথচ প্রয়োজনের মুহূর্তে উপযুক্ত রক্ত পাওয়া না গেলে রোগী ও তাঁর পরিবারকে চরম দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্যোগ।
০১
জীবন রক্ষায় সহায়তা
রক্তদানের প্রধান উপকারিতা হলো, এটি প্রয়োজনীয় রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা করে।

বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রক্তের প্রয়োজন হতে পারে:

  • সড়ক দুর্ঘটনা বা গুরুতর আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
  • সন্তান জন্মদানের সময় গুরুতর রক্তক্ষরণ
  • জটিল অস্ত্রোপচার
  • থ্যালাসেমিয়া রোগীর নিয়মিত চিকিৎসা
  • নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার ও রক্তের রোগ
  • গুরুতর রক্তস্বল্পতা

আপনার দান করা রক্ত সঠিকভাবে সংগ্রহ, পরীক্ষা, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হলে তা কারও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

০২
রক্তের বিভিন্ন উপাদান
রক্তের মধ্যে লোহিত রক্তকণিকা, প্লেটলেট ও প্লাজমাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে।

লোহিত রক্তকণিকা: শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পরিবহনে সহায়তা করে। নির্দিষ্ট ধরনের রক্তক্ষরণ ও রক্তস্বল্পতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

প্লেটলেট: রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্লাজমা: রক্তের তরল অংশ, যাতে বিভিন্ন প্রোটিন ও জমাট বাঁধার উপাদান থাকে।

আধুনিক রক্ত পরিসঞ্চালন ব্যবস্থায় সংগৃহীত রক্ত প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উপাদানে পৃথক করা যায়।

০৩
মানবিকতার বন্ধন
রক্তের প্রয়োজনে থাকা একজন মানুষের পরিচয় বা আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে মানবিক সহায়তা দেওয়া উচিত নয়।

স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে:

  • মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়
  • তরুণদের সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি হয়
  • স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ে
  • বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি গড়ে ওঠে
  • স্থানীয় পর্যায়ে রক্তদাতাদের একটি সহযোগিতামূলক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়
০৪
রক্তদাতার শরীরে প্রভাব
রক্তদান করলে শরীরের সব রোগ প্রতিরোধ হয় বা হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, এ ধরনের দাবির যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

তবে নিরাপদভাবে রক্তদানের কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে:

  • স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ, রক্তচাপ, হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করা হয়
  • শরীরের রক্তের তরল অংশ পুনরায় পূরণ, পর্যাপ্ত তরল পান করলে ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় পূরণ হয়
  • মানসিক তৃপ্তি, মানবিক কাজে অংশ নেওয়ার আনন্দ
  • স্বাস্থ্য সম্পর্কে দায়িত্বশীল হওয়ার অভ্যাস

প্রতিবার রক্তদানের আগে নির্ধারিত স্বাস্থ্য যাচাই সম্পন্ন করা জরুরি।

০৫
রক্তদানের আগের প্রস্তুতি
নিরাপদ রক্তদানের জন্য কিছু বিষয় মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
  • পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন
  • রক্তদানের আগে স্বাভাবিক ও পুষ্টিকর খাবার খান, খালি পেটে যাবেন না
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • নিজের অসুস্থতা, ওষুধ ও চিকিৎসার ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিন
  • সাম্প্রতিক জ্বর, সংক্রমণ, অস্ত্রোপচার থাকলে জানান
  • স্বাস্থ্যকর্মীর নির্দেশনা অনুসরণ করুন
০৬
রক্তদানের পরের করণীয়
রক্তদানের পর নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • নির্ধারিত সময় বিশ্রাম নিন
  • পানি ও অন্যান্য উপযুক্ত তরল পান করুন
  • পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন
  • মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগলে স্বাস্থ্যকর্মীকে জানান
  • ভারী ব্যায়াম, পরিশ্রম ও ভারী জিনিস তোলা এড়িয়ে চলুন
  • দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
০৭
কারা রক্তদান করতে পারবেন
সব মানুষ সব সময় রক্তদানের উপযুক্ত নন। বয়স, ওজন, হিমোগ্লোবিন ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাধারণ নির্দেশনায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী সুস্থ ব্যক্তিরা রক্তদানের উপযুক্ত হতে পারেন।

রক্তদানের আগে সাধারণত যাচাই করা হয়:

  • বয়স ও শরীরের ওজন
  • হিমোগ্লোবিনের মাত্রা
  • রক্তচাপ ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা
  • সাম্প্রতিক অসুস্থতা বা সংক্রমণ
  • নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ
  • সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচার, ট্যাটু
০৮
কখন রক্তদান করবেন না
নিজের স্বাস্থ্য ও রক্তগ্রহীতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিচের পরিস্থিতিতে রক্তদান স্থগিত রাখা বা বিশেষ মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে:

  • জ্বর বা সক্রিয় সংক্রমণ
  • রক্তস্বল্পতা বা হিমোগ্লোবিন কম
  • গর্ভাবস্থা বা প্রসবের পর নির্দিষ্ট সময়
  • কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ
  • নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণ
  • সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচার

নিজে থেকে যোগ্যতা নির্ধারণ না করে রক্ত সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিন।

০৯
নিরাপদ রক্তদান
রক্তদান যেমন মানবিক কাজ, তেমনি রক্ত সংগ্রহ ও পরিসঞ্চালনের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ।
  • প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে রক্তদান করুন
  • প্রতিবার নতুন ও জীবাণুমুক্ত সূঁচ ব্যবহার নিশ্চিত করুন
  • নিজের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিন
  • রক্তে সংক্রমণ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন

রক্তের মাধ্যমে এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি ও সিফিলিস সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

১০
কত দিন পরপর রক্তদান
রক্তদানের মধ্যবর্তী সময় নির্ভর করে রক্তের ধরন, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও রক্তদাতার শারীরিক অবস্থার ওপর।

পূর্ণ রক্তদানের ক্ষেত্রে অনেক দেশে সাধারণত ৯০ দিন (তিন মাস) বিরতি রাখা হয়।

বারবার রক্তদান করলে শরীরের আয়রনের মাত্রা কমে যেতে পারে। তাই আগের রক্তদানের তারিখ গোপন করা বা নির্ধারিত ৯০ দিন বিরতির আগে রক্তদান করা উচিত নয়।

পরবর্তী রক্তদানের সময় নির্ধারণে রক্ত সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুসরণ করুন।

১১
কীভাবে স্বেচ্ছায় রক্তদাতা হবেন
রক্তদাতা হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ হলো নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া।
  • নিজের রক্তের গ্রুপ জেনে রাখুন
  • নিকটস্থ অনুমোদিত রক্ত সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানুন
  • রক্তদানের যোগ্যতা যাচাই করান
  • উপযুক্ত হলে স্বেচ্ছায় রক্তদান করুন
  • প্রতিবার রক্তদানের তারিখ সংরক্ষণ করুন
  • পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের জানান
১২
রাণীনগর রক্তদাতা নেটওয়ার্ক
রক্তের প্রয়োজনে সঠিক সময়ে উপযুক্ত রক্তদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারা গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে।

আমাদের লক্ষ্য:

  • রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী রক্তদাতার তথ্য সাজানো
  • উপজেলা ও এলাকাভিত্তিক খুঁজে পাওয়ার সুবিধা
  • জরুরি রক্তের অনুরোধ যাচাই করা
  • ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা
  • নিয়মিত রক্তদানের তারিখ সংরক্ষণ
  • নিরাপদ রক্তদান সম্পর্কে সচেতন করা
আপনার একটি উদ্যোগ, অন্য কারও আশার আলো

আসুন, মানবতার পাশে দাঁড়াই। স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে উৎসাহিত করি।

রক্তদাতা হিসেবে নিবন্ধন করুন

উপদেষ্টা পরিষদ

সম্মানিত উপদেষ্টাবৃন্দ

লোড হচ্ছে...

Zoom
100%